নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে ট্রলারডুবির প্রায় ১৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়েও একই পরিবারের চারজনের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে রাতভর অভিযান চালানোর পর শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে আবারও পুরোদমে অভিযান শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। পানির নিচে ক্যামেরা ব্যবহার করেও তাদের সন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানাসংলগ্ন মেঘনা নদীতে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় রায়েশা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন (৫৫), তার ছেলে সজীব (২৪) ও সামিন (৫) এবং মেয়ে সামিয়া (১৭) এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ জাহেদ চৌধুরী বলেন, গতকাল আনুমানিক দুপুর দেড়টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়ার পর বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। রাত তিনটা পর্যন্ত অভিযান চালানোর পর শুক্রবার সকাল সাতটা থেকে আবারও অভিযান শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা রাত তিনটা পর্যন্ত উদ্ধারের অভিযান চালিয়েছি। আমাদের ডুবুরি ইউনিট দিয়ে এখন আবার সকাল ৭টা থেকে পুরোদমে উদ্ধার শুরু হয়েছে। এখনো চলতেছে। পানির নিচে অনুসন্ধানের জন্য ক্যামেরা দিয়েও খোঁজা হচ্ছে। আমরা এবং ডুবুরি টিম দিয়ে সব দিক দিয়ে দেখছি। এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে বৈদ্যেরবাজার নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল বলেন, ‘নৌকাটিতে ১৪ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের সঙ্গে দুটি গরু ও একটি খাসি ছিল। ঝড়ের কবলে পড়লে নৌযানটি ডুবে যায়।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হারিয়া এলাকার সাজিয়া আক্তার ও শিশিরের বিয়েতে অংশ নিতে স্বজনেরা কুমিল্লার হোমনা থেকে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের হারিয়া এলাকায় আসছিলেন। মেঘনা নদী পার হওয়ার সময় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে গেলে যাত্রীরা পানিতে পড়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন অন্য একটি ট্রলার নিয়ে কয়েকজনকে উদ্ধার করেন। একই পরিবারের শিরিন বেগম (৪৫) ও তার মেয়ে লামিয়া আক্তারকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আহত কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
রায়েশা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত।