সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১২ বছর আগের একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন সোনারগাঁও থানা জাসাসের সাবেক সভাপতি, কাঁচপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য বি এম ডালিম।
বুধবার (২৬ আগস্ট) এক খোলা চিঠিতে তিনি তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা, দীর্ঘদিন আদালতে হাজিরা না দেওয়া এবং বর্তমানে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
খোলা চিঠিতে বি এম ডালিম দাবি করেন, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে তাকে একাধিক ‘মিথ্যা মামলায়’ আসামি করা হয় এবং কয়েক দফা তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তিনি জানান, হেফাজতে ইসলামের ৫ মে’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা এবং ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
তার দাবি, ওই মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৫ দিন কারাভোগের পর তিনি মুক্তি পান। তবে কারাগার থেকে বের হওয়ার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন আশঙ্কায় তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে জানান।
খোলা চিঠিতে তিনি আরও বলেন, সে সময়কার বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা না থাকায় পরবর্তী সময়ে তিনি মামলাগুলোতে আর হাজিরা দেননি। তার ভাষ্য, জনগণের সরকার ও নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি নিজে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন—এমন সিদ্ধান্ত নিয়েই এতদিন অপেক্ষা করেছেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও কেন আত্মসমর্পণ করেননি—এ বিষয়ে বি এম ডালিম বলেন, সে সময় সরকারের মেয়াদ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আস্থাশীল ছিলেন না। পরবর্তীতে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার পর রমজান, ঈদ এবং হজের কারণে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত পিছিয়ে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
চিঠিতে তিনি আরও দাবি করেন, একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এমপি পুত্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হলে তিনি সঙ্গে গিয়েছিলেন। ওই সময় তার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বি এম ডালিম বলেন, তিনি সবসময় চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমান বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির জামিন পাওয়ার ঘটনাকে তিনি বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। এ কারণেই এখন তিনি দীর্ঘদিনের মামলায় নিজে থেকে আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
খোলা চিঠির শেষাংশে বি এম ডালিম বলেন, “আমি নিজ থেকে আত্মসমর্পণ করবো। ইনশাআল্লাহ সত্যের বিজয় হবে।”
তবে তার আত্মসমর্পণকে ভিন্ন খাতে নেয়ার জন্য চাঁদাবাজি মামলায় বন্দর থানায় গ্রেফতার বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ মো: জামাল হোসেন বলেন, বন্দর থানায় চাঁদাবাজী মামলায় বিএম ডালিম নামে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।