
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ঘরহীন মানুষের জন্য ‘জমি আছে ঘর নেই যার, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পের দুর্যোগ সহনীয় ঘর বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অসহায় মানুষের ঘর পেতে দুর্নীতি ও অবৈধভাবে চাপ প্রয়োগ করে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের
৭নং ওয়ার্ডের বানিয়াচং গ্রামের বাসিন্দা বালা চান সরকারের ছেলে আঃ ছালাম সরকার ওরফে বানোডি নিজ
সমন্ধীর বউ মৃত জাকিয়া বেগমের নামে উপজেলা প্রশাসনের কাছে কাগজপত্র জমা দেন। পরবর্তীতে
৭নং ওয়ার্ডে ঘর বরাদ্ধ হওয়ার পর নিজের মেয়ে সীমা আক্তার (২৬) ইউনিয়ন পরিষদে
ডিজিটাল সেন্টারে কাজ করেন বিধায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আঃ রউফের সহায়তায় সেই সরকারী
ঘরটি ৮নং ওয়ার্ডের শম্ভুপুরা গ্রামে নির্মাণ করান। অভিযোগ উঠেছে জালিয়াতি করে ৭নং
ওয়ার্ডের ঘরটি ৮নং ওয়ার্ডে নির্মাণ করে অন্যজনের মালিকাধীন জমি দখল করতে চেয়েছেন আঃ
ছালাম সরকার ওরফে বানোডি ও তার মেয়ে সীমা আক্তার।
যেই জায়গাটিতে সরকারি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে সেই জমির মালিক
৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত শফিকুর রহমানের ছেলে মনিরুজ্জামান জানান, পৈত্রিকসূত্রে
এই জমির মালিক আমি। আমার জায়গার আঃ ছালাম সরকার ওরফে বানোডি ও তার মেয়ে সীমা ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে আমার জমিটি দখল করে
রেখেছে। সরকারী ঘর হওয়ায় আমি এই ঘর অপসারণ ও করতে পারছি। বিষয়টি জানিয়ে আমি উপজেলা
প্রশাসন ও থানায় অভিযোগ করেও কোন ফলাফল না পেয়ে হতাশ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরহীন মানুষের জন্য ‘জমি আছে ঘর নেই যার, তার নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ’ প্রকল্পের সরকারের দেয়া ঘরে আঃ ছালাম সরকার ওরফে বানোডির ছোট মেয়ে
লিজার (২২) ফার্নিচার ও অন্যান্য আসবাবপত্র রাখা আছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা
যায়, পাশের জমিতে তার নিজের গরুর ফার্ম থাকায় এই জমিটি নেয়ার ব্যাপারে দীর্ঘদিন
যাবত চেষ্টা করে আসছেন।
ঘরটি তার সমুন্দির বউ জাকিয়া বেগমের নামে সরকার বরাদ্ধ
দেয়ার কথা স্বীকার করে আঃ ছালাম সরকার ওরফে বানোডি জানান, আমার সাথে
মনিরুজ্জামানের জায়গা নিয়ে শত্রুতা থাকায় সে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। প্রকৃত
পক্ষে ঐ জমির মালিক আমি। অসহায় পরিবার হওয়ায় আমি জাকিয়া ও তার পরিবারকে ঐ জায়গা টি
থাকতে দিয়েছি।
অভিযোগ
বিষয়ে
শম্ভুপুরা ইউনিয়নের ৭নং মেম্বার মো. সাজেদ আলী বলেন, আমার ওয়ার্ডের ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পর কিভাবে সেই ঘর ৮নং ওয়ার্ডে
গেলো তা আমি জানি না। তবে, আঃ ছালাম সরকারের মেয়ে সীমা চেয়ারম্যানের চাকরী করেন।
তাই জালিয়াতির বিষয়টি সম্পূর্ণ চেয়ারম্যান আঃ রউফই বলতে পারবেন।
এদিকে শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আঃ রউফ মামলায়
গ্রেফতার হয়ে জেলে থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।