সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) থেকে মো. মোক্তার হোসেন:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় কলেজ পড়ুয়া IELTS করা মাহফুজুর হোসেন নামে ছাত্রকে সৌদি আরবে কফি'শপে ১৫শ রিয়াল বেতনে চাকুরি দেওয়ার নামে লোড-আনলোড সাপ্লাই ভিসা দিয়ে মোহাম্মদ স্বপন (৩৭) নামে আদম বেপারী প্রতারণার ফাঁদে পড়ে খোয়া গেল নয় লক্ষ টাকা। নিঃস্ব হলো কলেজ ছাত্র প্রবাসী মাহফুজের পরিবার। এ ঘটনায় বুধবার (৩ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ভুক্তভোগী প্রবাসীর পিতা থানায় লিখিত একটি অভিযোগ দায়ের করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শম্ভুপুরা ইউপির ১নং ওয়ার্ডের দুর্গা প্রসাদ (পূর্বপাড়া) গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে আদম বেপারী মোহাম্মদ স্বপন, পার্শ্ববর্তী মোগরাপাড়া ইউপির দমদমা গ্রামের মো.মোক্তার হোসেনের ছেলে গজারিয়া কলিমুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিতে দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যায়নরত IELTS করা কলেজ ছাত্র মো.মাহফুজুর হোসেনকে সৌদি আরবে কফি'শপে (ইংরেজি জানতে হবে) থাকা-খাওয়া দিয়ে সর্বনিম্ন ১৫শ' রিয়াল বেতনে চাকুরি দিবে প্রলোভন দেখিয়ে পরিবারকে প্রথম ধাপে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ৪ লাখ কুড়ি হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। গত ১১ জানুয়ারি ট্রানজিট বিমানে রিয়াদ শহরে কফি' শপের নামে তিন মাসের (warehouse worker) লোড-আনলোড সাপ্লাই ভিসা দিয়ে বাঙালি এক দালালের কাছে পাঠায়। রিয়াদে থাকা দালাল নিনজা কোম্পানিতে ১৭শ' রিয়াল বেতনে সাপ্লাইয়ে কাজ দেয়ার জন্য মাহফুজুর'কে নিয়ে যায়। ৫ দিন থাকার পর ভুক্তভোগী প্রবাসী মাহফুজুর জানতে পারে তাকে নিনজা নামে কোম্পানিতে সাপ্লাইয়ের কাজে দেওয়া হবে।
পুনরায় বাংলাদেশের দালাল আদম বেপারী মোহাম্মদ স্বপনের অনুমতিক্রমে রিয়াদে দালালের কাছে ফিরে আসে। সাপ্লাই কাজে কোম্পানিতে না যাওয়ার কারণে শুরু হয় শারীরিক মানসিক রুমে আটকে রেখে টর্চার।
এ ঘটনায় রিয়াদ শহরে থাকা ভুক্তভোগী মাহফুজুরে'র আপন চাচাতো ভাই খবর পেয়ে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন।
এ ব্যাপারে আদম বেপারী মোহাম্মদ স্বপন তার সাথে লোকজন নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সোনারগাঁও রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রধান কার্যালয় সভাপতি আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে বৈঠক বসে। বৈঠক শেষে উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সম্মতিক্রমে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রানা'র সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে, যেহেতু, মাহফুজুর'কে লোড- আনলোড ভিসায় পাঠানো হয়েছে ওই ভিসায় পারমিট (আকামা) হয় না।ভিসায় থাকা তিন মাসের মেয়াদের মধ্যে অন্যত্র বদলি হয়ে পারমিট (আকামা) করতে হবে। না হয় মাহফুজ'কে দেশে চলে আসতে হবে। তৎকালীন প্রবাসী ভুক্তভোগী মাহফুজ'কে অন্য মালিকের কাছে বদলি হতে ৩১শ'রিয়াল খরচ হবে। উপস্থিত বৈঠকে বিবেচনা করে ২৫শ'রিয়াল বাংলা ৮২ হাজার ৫শ টাকা,গত ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরিশোধ করবে বলে দালাল স্বপন স্বীকার করে। এমত অবস্থায় টাকা দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাইতে ঘুরাইতে গত এপ্রিল মাসের প্রথমদিকে ৪০(চল্লিশ) হাজার টাকা প্রদান করে।গত ১১ এপ্রিল তিন মাসের সাপ্লাই ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে ভুক্তভোগী মাহফুজ প্রবাসে সৌদির মাটিতে অবৈধ হয়ে যায়।
এদিকে সৌদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দন্ডবিধি আইনে, অবৈধ থাকা প্রবাসী গ্রেফতার হলে কঠিন শাস্তি সহ মোট অংকের জরিমানা দিয়ে চিরতরে দেশে চলে আসতে হবে।সৌদি পুলিশের সর্বত্র সাঁড়াশি অভিযানে কঠিন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন অবৈধ ভাবে পালিয়ে থাকার পর গত ২৪ মে' ৬ হাজার ৫শ'রিয়াল বাংলা ২ লাখ ১৬ হাজার ৫শ টাকা খরচ করে হাঙ্গার কোম্পানিতে 'ফুড ডেলিভারি' কাজে বৈধ হন।
আদম বেপারীর কন্টাক্ট ফর্মের ১৫শ রিয়াল বেতন চুক্তি অনুযায়ী গত প্রায় ৫ মাসে ৭ হাজার ৫শ' রিয়াল বাংলা ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা সর্বমোট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫শ' টাকা। আদম বেপারী তিন মাসের লোড-আনলোড সাপ্লাই ভিসা দিয়ে প্রতারণা করে নিয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা, সর্বমোট নয় লাখ ছয় হাজার টাকা ভুক্তভোগী প্রবাসী মাহফুজ ও তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
