প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাছে ৩ জুনকে "জাতীয় পরিচ্ছন্ন দিবস" ঘোষণার দাবি - News Of Sonargaon

শিরোনাম

Friday, June 3, 2022

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাছে ৩ জুনকে "জাতীয় পরিচ্ছন্ন দিবস" ঘোষণার দাবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাছে ৩ জুনকে "জাতীয় পরিছন্ন দিবস" ঘোষণার দাবি

নিউজ ডেস্ক:

পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০১৬ সাল থেকে স্বেচ্ছাসেবী লাখো তারুণ্যকে নিয়ে কাজ করছে বিডি ক্লিন। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দেশ ব্যাপী এক যুগে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট এই দিবসটিকে পরিচ্ছন্ন দিবস ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৩রা জুন) নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও সহ সারাদেশের প্রায় ৩৩ হাজার ৪ শত স্বেচ্ছাসেবী পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে স্বেচ্ছায় শ্রম দিয়ে এই দিবস পালন করেন।


বিডি ক্লিনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে তাদের দাবিটি পুরোপুরি তুলে ধরা হলো: -


মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আকুল আবেদন
বরাবর
জননেত্রী শেখ হাসিনা, এম.পি
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

বিষয়: ৩ জুন দিবসটিকে "জাতীয় পরিছন্ন দিবস" হিসেবে ঘোষণার আবেদন প্রসঙ্গে।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

বঙ্গপোসাগরের উপকূলে ৫৬ হাজার বর্গমাইলের সবুজ-শ্যামল এক দেশ বাংলাদেশ। উত্তরে অবস্থিত হিমালয় যেমন এই দেশে ছন্দময় বর্ষা আনে তেমনি দক্ষিণের বিশাল জলরাশি আমাদেরকে বিমোহিত করে। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এই দেশের জল-হাওয়ায় মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন, ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে না-কো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি’। এই দেশ আমাদের গর্ব, এই দেশই আমাদের একমাত্র অহংকার।


প্রিয় বঙ্গবন্ধুকন্যা

আজকের এই বাংলাদেশ একদিনে অর্জিত হয়নি। প্রাচীন জনপদের সমৃদ্ধ অস্তিত্ব আমাদেরকে ঠিকই জানান দেয়, কালেকালে এই বাংলা ছিল দখলদারদের আবাসভূমি। বাঙালি জাতিও পরাধীনতার গ্লানি টেনেছে যুগেরপর যুগ। অবশেষে টুঙ্গীপাড়ার খোকা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, বাঙালির রাখাল রাজা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরাধীনতার সে শিকল ভেঙে আমাদেরকে দিয়েছেন মহান স্বাধীনতা। জাতির পিতার নেতৃত্বে ৩০ লক্ষ শহীদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি লাল-সবুজের পতাকা। স্বাধীনতার প্রাক্কালে লন্ডনের জনৈক সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন: যুদ্ধবিধ্বস্ত এমন একটি দেশকে আপনি কীভাবে নতুন করে গড়ে তুলবেন? উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন আমার দেশের মাঁটি এতোটাই ঊর্বর - একটি বীজ রোপন করলে যত্ন ছাড়াই তা চারাগাছ হয়ে যায়।


প্রিয় জননেত্রী,

আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে যখন দেখি, সহস্র-লক্ষ ত্যাগের বিনিময়ে কেনা বঙ্গবন্ধুর এই সোনার বাংলা আজ দূষণের শিকার। যখন দেখি যত্রতত্র ফেলা ময়লার ভীড়ে সবুজ-শ্যামল এ বাংলাদেশ তার সৌন্দর্য হারাতে বসেছে। যখন দেখি দূষণের প্রভাবে আমাদের আবাদি জমি তার ঊর্বরতা শক্তি হারিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হচ্ছে। যত্রতত্র পড়ে থাকা ময়লা আর দুর্গন্ধে আমরা নানাভাবে অসুস্থ হচ্ছি। ফলে আমাদের গড় আয়ু যেমন কমে যাচ্ছে তেমনি বেড়ে যাচ্ছে চিকিৎসা ব্যয়ভার।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
সেই খারাপ লাগা আর দুঃখবোধ থেকেই পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ২০১৬ সালের ৩ জুন আমরা গড়ে তুলে ছিলাম স্বেচ্ছাসেবীভিত্তিক সংগঠন ‘ঢাকা ক্লিন’। পরিধি বাড়তে বাড়তে আজ তা ‘বিডি ক্লিন’এ পরিণত হয়েছে। আজ সাড়াদেশে প্রায় ৩৩ হাজার ৫ শত একটিভ সদস্য নিজ খরচে, স্বেচ্ছাসেবী ভিত্তিতে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে তা নির্ধারিত স্থানে ফেলার কাজ করে চলেছে অবিরাম। দেশজুড়ে জেলা-উপজেলা টিম মিলিয়ে রয়েছে ১৬৭ টি ডেডিকেটেড টিম। যারা দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে ২০১৯ এর বিজয় দিবস উদযাপন করেছেন সারাদেশের মাটি-পানিতে ছড়িয়ে থাকা দূষণকারী ৩০ লক্ষাধিক প্লাস্টিক বোতল সংগ্রহের মাধ্যমে

( https://fb.watch/dpu5JGeSvD/ )।


আবার ২০২১ এর বিজয় দিবস ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করেছে সারাদেশের মাটি-পানিতে পড়ে থাকা পৃথিবীর সর্বাধিক দূষণকারী পদার্থ ৫ কোটির অধিক সিগারেটের ফিল্টারের মতো ক্ষতিকর বর্জ্য সংগ্রহ করার মাধ্যমে
( https://fb.watch/dpuAK36POC/ )।


জনসচেতনতা তৈরীতে এ সকল দুষিত পদার্থ যেমন: প্লাস্টিক বোতলের ক্যাপ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ও সিগারেট ফিল্টার দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র সহ মনোমুগ্ধকর নানান চিত্র ও স্থাপনা তৈরির মাধ্যমে আয়োজন করা হয় "Save Earth Save Bangladesh" শিরোনামে মনোরম প্রদর্শনী। যেখানে যত্রতত্র ফেলে দেওয়া ময়লা-আবর্জনার মাধ্যমে সৃষ্ট ভয়ানক তথ্য-চিত্র জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা হয়েছিল।


মানবতার জননী

আমাদের নিবেদিত প্রাণ ভাই-বোনেরা ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের চোখ জুড়ে স্বপ্ন বাংলাদেশকে একটি পরিপাটি, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। রফিক, শফিক বরকতের মতো তরুণেরা আমাদের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছেন। মতিউর, হামিদুর, রউফের মতো তরুণেরা আমাদের দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। আর আমরা সে দেশটাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে পারবোনা, তা আমরা বিশ্বাস করি না।


১৬ কোটি মানুষের প্রিয় অভিভাবক

আপনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে, ছোট আয়তের বৃহৎ জনসংখ্যার এই দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। পুরো পৃথিবী যখন অর্থনৈতিক দুরবস্থা সামাল দিতে হিমসিম খাচ্ছে, সেখানে আপনার কল্যাণে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আরো টেকসই হচ্ছে। সারাদেশে চলছে উন্নয়নের মহাযজ্ঞ। মহাপ্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে এই দেশ সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ঠিক এমন মুহুর্তে আমাদের এই দেশটাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা অতীব জরুরী বলে আমরা মনে করছি। এখন আমাদেরকে শপথ নিতে হবে, যেন ময়লা-আবর্জনার প্রকোপে কোনো মানুষকে অসুস্থ হতে না হয়। এখনি আমাদেরকে শপথ নিতে হবে যেন দুষণের যাতাকলে এদেশের সবুজ-শ্যমল রূপ-সৌন্দর্য বিবর্ণ না হয়।


বঙ্গবন্ধু তনয়া ও মমতায়ী প্রধানমন্ত্রী

বিডি ক্লিন সম্পুর্ণরুপে একটি স্বেচ্ছাসেবী ও অরাজনৈতিক সংগঠন। উদ্যমী তারুণ্যেরাই কেবল এই সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। যারা দেশটাকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে নিজ পকেটের টাকা খরচ করে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

আমাদের এই কাজের গতিকে আরো বেশি ত্বরান্বিত করতে আপনার কন্ঠে ৩ জুন দিবসটিকে "জাতীয় পরিচ্ছন্ন দিবস" হিসেবে ঘোষণা পাবার নিমিত্তে আমাদের আকুল আবেদন ব্যক্ত করছি। আমরা বিশ্বাস করি আপনার এই স্বীকৃতি প্রদান আমাদেরকে শতগুণ গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আপনার এই অসামান্য অবদান আমাদেরকে গন্তব্যে পৌঁছার মাইল ফলক হয়ে কাজ করবে।


মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

আমরা কথা দিচ্ছি, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে খুব স্বল্পতম সময়েই আপনাকে একটি সুস্থ, সুন্দর-পরিপাটি ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ উপহার দেব।

বিনীত নিবেদক
৩৩,৪০০ প্লাস বিডি ক্লিন পরিচ্ছন্ন যোদ্ধা