সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের
সোনারগাঁওয়ে পারিবারিক কলহের জের
ধরে গত ৩রা সেপ্টেম্বর বাবার বাড়িতে ঝগড়া করে প্রবাসী স্বামীর বাড়িতে এসে বিষপানে আত্মহত্যা
করেন মোসাঃ মালা আক্তার। আত্মহত্যার পর নানা
অযুহাতে বাক-প্রতিবন্ধী মমতাজ বেগম ও তার পরিবারকে মিথ্যে মামলায় ফাসানোর অভিযোগ
পাওয়া গেছে।
রবিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে বাক-প্রতিবন্ধী মমতাজ বেগমের
ছেলে নারায়ণগঞ্জ সদরের কালিরবাজারের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, মালা
আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনাকে তার বাবা হেলাল মিয়া (৪৯) আমার ও আমার পরিবারের উপর
মিথ্যে অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন। আমার ভাই নূর হোসেনের ৬ বছরের শিশু সন্তান নুসরাত মীম ঘটনার পর পর পুলিশের সামনে স্বাক্ষ
দিয়েছে “নানার বাড়িতে ঝগড়া করে এসে আম্মু চিরদিনের মরে যামুগা। রাতে কাউকে ডাকতে
নিষেধ করছে। সকালে মামীকে ডাকবি।“ অথচ সেই শিশু নুসরাতকে ভয় দেখিয়ে তার উল্টো
বক্তব্য দিয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অন্যদিকে একজনের সাহায্য ছাড়া চলতে ৩ ছেলে ও ২
মেয়ের জননী অক্ষম বাক-প্রতিবন্ধী মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে অত্যাচার ও নির্যাতনের
অভিযোগ দায়ের করেন মালার বাবা হেলাল মিয়া।
বিষপানে আত্মহত্যা করা নুসরাতের মা মালার পাশের বাড়ির
প্রতিবেশী মনোয়ারা বেগম (৫০) বলেন, মালার সাথে কামরুন নাহার, আনোয়ার, কাজলী বা তার
শাশুড়ী মমতাজ বেগমের কোন দিন ঝগড়া তো দূরের ব্যাপার, কোন দিন কথা কাটাকাটি করতে
শুনিনি। আনোয়ার স্বপরিবারে নারায়ণগঞ্জ থাকে। ও তো এদিকে বছরে আসেও না। এলাকার
মানুষ মালার বাপের বাড়ির এই মিথ্যা মামলায় হতাশ। সঠিক তদন্তপূর্বক নির্দোষদের
দ্রুত মামলা থেকে মুক্তি দাবি জানাই।
মালার আরেক প্রতিবেশী কল্পনা বেগম (৩০) জানান, মালা যেদিন
আত্মহত্যা করে ঐদিন বাপের বাড়ি থেকে এসেই বাড়ির সব দরজা জানালা বন্ধ করে মেয়েকে
নিয়ে ঘুমিয়ে পরার আগে আমার সাথে দেখা হয়েছিল। আমি কথা জিজ্ঞেস করলে কোন উত্তর
দেয়নি। ঐদিন তার সাথে এই বাড়িতে কোন ঝগড়া হয়নি।
এই ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুন নাহার ওরফে কামা (৪০)
আনোয়ার হোসেন (৪৮), মোসাঃ কাজলী বেগম (৩৮) ও মো. ইসমাঈল (৩৫) জানান, মালাকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
আমাদের সাথে মালার সুসম্পর্ক ছিল। তার বাবা তার নিজের সাথে মালার পারিবারিক কলহের
বিষয়টি গোপন করতেই আমাদের উপর মিথ্যে মামলা দায়ের করেছেন। আমরা এই মিথ্যে মামলার
সুষ্ঠ তদন্তপূর্বক দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।