সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতাঃ
বাংলাদেশে এখন বছরে ৬ লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন৷ এর
৯০ ভাগই পাওয়া যায় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের কাছ থেকে৷ তাই পেশাদার রক্তদাতাদের
দৌরাত্ম অনেকটাই কমে গেছে৷ আশা করা হচ্ছে,
৫ বছর পর পেশাদার রক্তদাতা আর থাকবে না৷
ঢাকার বিভিন্ন প্রাইভেট ব্লাড ব্যাংকে ৫ বছর আগেও
বড় বড় অভিযানের খবর পাওয় যেতো৷ উদ্ধার করা হতো মানব শরীরে ব্যবহারের অনুপযোগী
রক্ত৷ হাসপাতালগুলোতে গেলেই দেখা মিলত পেশাদার রক্তদাতাদের, যাঁদের
প্রায় সবাই ছিলেন রক্ত দেয়ার অনুপযোগী৷ তাঁদের বড় একটি অংশই ছিলেন মাদকাসক্ত৷ তখন
পেশাদার রক্তদাতাদের মাধ্যমে অনেক জটিল এবং কঠিন রোগ ছড়াতো।
এখানো যে পেশাদার রক্তদাতা নেই, তা নয়৷ মাঝে মাঝে কথিত ব্লাড
ব্যাংকে অভিযানও হয়৷ তবে দৌরাত্ম কমেছে৷ মানুষ সচেতন হয়েছে৷ চাইলে রক্ত পাওয়া যায়
ভিন্ন সংগঠন থেকে৷ অনলাইনে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের গ্রুপ আছে৷ আর সেখানে রক্তের
চাহিদার সাথে ডোনারদের সম্মীলন ঘটিয়ে দেয়া হয়৷ ব্লাড ব্যাংকে সংরক্ষিত রক্ত লাগে
না৷ সরাসরি ডোনারের কাছ থেকে রক্ত নিয়ে রোগীদের
দেয়া হয়৷ বিভিন্ন সংগঠনের সাথে নিবন্ধিত
এরকম সেচ্ছায় রক্তদাতা বিশ লাখের কম হবে না৷ নিন্ধনের বাইরেও প্রচুর মানুষ এখন
নিয়মিত সেচ্ছায় রক্ত দেন৷ এমনই একটি স্বেচ্ছাসেবী রক্তযোদ্ধাদের সংগঠন মেঘনা আবাবিল ব্লাড ব্যাংক।
বিনামূল্যে রক্তদানে উৎসাহিত করতে মেঘনা আবাবিল
ব্লাড ব্যাংকের রক্তযোদ্ধারা গতকাল সোনারগাঁয়ের লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে ও
পানামনগরে রক্তদাতা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করে।
২০১৯
সালের পহেলা নভেম্বর থেকে সোনারগাঁ, মেঘনা, আড়াইহাজার, রুপগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন
এলাকার মধ্যে মেঘনা আবাবিল ব্লাড ব্যাংক স্বেচ্ছায় রক্তদানের কাজ গুলো করে আসছে। এই সংগঠনের সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন শিক্ষার্থীরা৷ সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিনামূল্যে রক্তদানের বিষয়ে এই সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যাপক
প্রচারণা করে তাই রক্তদানের বিষয়ে ব্যাপক সাড়া ও পাচ্ছেন তারা। গতকাল সকাল থেকে
বিকেল পর্যন্ত শতাধিক বিনামূল্যে স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সন্ধান পেয়েছেন তারা।
সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম রক্তদানের ক্ষেত্রে এখন অনেক বড় ভূমিকা পালন করছে৷ স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে রক্ত পেতে এখন আর হাসপাতালের স্লিপ লাগে৷ সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েই রক্তদাতা হাজির হয়ে যায়। বিরল কোনো গ্রুপের রক্ত হলেও ফেরায় না সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম৷ সেই অভিজ্ঞতার কথাই “নিউজ অফ সোনারগাঁও” কে জানান মেঘনা আবাবিল ব্লাড ব্যাংকের স্বপ্নবাজ হাফেজ মাওলানা আতাউর রহমান নামে একজন।
তিনি আরো জানান, ‘‘ ৪দিন আগে আমার বাইক এক্সিডেন্টে গুরুত্বর আহত এক ভাইয়ের জরুরী অপারেশন হয় ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে৷ তার রক্তের গ্রুপ ছিল এ পজিটিভ৷ আমি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয়ার পরে অন্তত ১০ জন যোগাযোগ করেন৷ তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র কাছাকাছি থাকায় তাঁর কাছ থেকে আমরা রক্ত নিই৷ এরপরও আরো অনেকে যোগাযোগ করেন৷ তখন আমি আপডেট ফেসবুকে জানিয়ে দেই৷'' আরো কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে ফেসবুকের মাধ্যমে রক্ত চাইলে নিরাশ হতে হয় না৷''
মানুষকে ভালোবেসে যতগুলো ভাল কাজ করা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে
স্বেচ্ছায় রক্তদান। দিন দিন স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ছে। এই সব রক্তদাতাদের
নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করছেন মেঘনা আবাবিল ব্লাড
ব্যাংকের একঝাঁক তরুণ।
