সোনারগাঁও
(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের
সোনারগাঁওয়ে চাঞ্চল্যকর “হামেশা ফুড লিমিটেড” ও “কাশ্মীর গ্রুপ”-এর কারখানায় ধারাবাহিক
ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ
সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া ২০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ
ভ্যান, মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা ও একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) আসামিদের আদালতে পাঠানো হলে
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত আনুমানিক
আড়াইটা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সোনারগাঁও থানাধীন হামেশা ফুড লিমিটেডে হানা দেয় একদল ডাকাত।
তারা কারখানার নিরাপত্তা প্রহরীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিপুল পরিমাণ তামার তার,
মনিটর ও মোবাইল ফোন পিকআপে তুলে নিয়ে যায়। এর পরদিন ২৭ অক্টোবর একই কায়দায় গভীর রাতে
কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেডের কারখানায় হানা দিয়ে তামার তারসহ অন্যান্য মালামাল লুট করে
পালিয়ে যায় চক্রটি। পর পর দুই রাতে একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় অজ্ঞাতনামা
ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়।
ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে নারায়ণগঞ্জের
পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, পিপিএম-এর নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম
অ্যান্ড অপস) তারেক আল মেহেদীর তত্ত্বাবধানে এবং ‘বি’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার
দীপংকর ঘোষের সহযোগিতায় মাঠে নামে পুলিশ। সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ
আব্দুল বারিক, পিপিএম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয়
দুটি বিশেষ টিম।
এসআই শেখ পারভেজ বিন কামাল চৌধুরী, এসআই রিফাত উদ্দিন
ও এসআই এবিএম গোলাম কিবরিয়ার সমন্বয়ে গঠিত দল দুটি ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন
এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালায়।
অভিযানের ধারাবাহিকতায় গত ৩১ অক্টোবর ডিএমপির যাত্রাবাড়ীর
কাজলা এলাকা থেকে শরিয়তপুরের জাজিরা থানার নগরবোয়ালিয়া গ্রামের জলির মাতবরের ছেলে রাদেশুল
মাদবর ওরফে রাজু (৩০)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের টঙ্গী
পূর্ব থানাধীন আনারকলি এলাকা থেকে কুমিল্লার তিতাস থানার দড়িমাছুমপুর গ্রামের আবুল
আইশের ছেলে আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা (৩৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন পুলিশের অপর দল গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে
নরসিংদীর মাধবদীর বাছের মিয়া (২৫), টাঙ্গাইলের ঘাটাইলের অনিল বাবু (৩৫) ও গাজীপুরের
কালীগঞ্জের ইমন হাসান ওরফে রাশেদুল (২৮)-কে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তাদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় ৩০০
আর-এর ৪৪০ মিটার ক্যাবলের কভার ছাড়ানো ২০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি
খোলা পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৬৮৫৮), লুণ্ঠিত মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং
একটি তামার ববিন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের
রেকর্ড রয়েছে। এর মধ্যে অনিল বাবুর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ৬টি মামলা এবং রাদেশুল মাদবর
ওরফে রাজুর বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা বিচারাধীন।
সোনারগাঁও থানা পুলিশ জানায়, রোববার গ্রেপ্তারকৃতদের কঠোর পুলিশ পাহারায় আদালতে সোপর্দ করা হলে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু ও আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। চক্রের অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।