সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সোনারগাঁও উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় আল মদিনা শপিংমলে অগ্নিকান্ডের পর থেকে শতাধিক ভাড়াটিয়া এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মার্কেট মালিককে বিচারের দাবি করে আসছেন।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মার্কেটটিতে বৈদ্যুতিক সংযোগ না থাকায় রেস্টুরেন্ট, মোবাইল মার্কেট, ব্যাংক, ইস্যুরেন্স অফিসসহ অন্যান্য অফিসের কার্যক্রম সম্পুর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ আগুনের সূত্রপাত হলে বেইসমেন্টে থাকা বৈদ্যুতিক মিটার ও বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পুড়ে গেলে ১ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকজন দোকান, অফিস ও রেষ্টুরেন্ট মালিকদের জোড়ালো অভিযোগ তুলেছেন। তাদের মধ্যে কলাপাতা বার্গার রেস্টুরেন্টের মালিক মামুন সিকদার বলেন, আমাদের সঙ্গে আল মদিনা মার্কেট মালিক মাজারুল ইসলাম নবীর আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলে বর্তমানে মার্কেটটি একটি হাসপাতালের কাছে মোটা অংকের টাকায় ভাড়া দিতে আমাদেরকে চলে যেতে চাপ সৃষ্টি করছেন তিনি। মূলত অগ্নিকাণ্ডের নাটক সাজিয়ে কয়েকদিন বিদ্যুৎ বন্ধ করে রেখে আমাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার পায়তারা হচ্ছে।
এসএ গ্রীন লাউঞ্জ মালিক মো. পনির জানান, জোরপূর্বকভাবে মার্কেট থেকে বের করে দিতেই পরিকল্পিত এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আল মদিনা শপিংমলের মালিক মাজারুল ইসলাম নবীর সঙ্গে বাৎসরিক চুক্তিপত্র থাকা সত্ত্বেও দোকান ছাড়ার জন্য ব্যবসায়ীকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। এর একদিন পরই আগুন লাগার ঘটনায় তারা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন পরিকল্পিকভাবে এ অগ্নিকান্ডে ঘটনা ঘটিয়েছেন।
শপিং মলের ভবনে থাকা ভাড়াটিয়া দোয়েল পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলজার হোসেন ভূঁইয়া বলেন, গতকাল একটি নোটিশে যদি কোন ক্ষয়ক্ষতি হয় তাহলে মার্কেট মালিক দায়ী থাকবে না বলে পরের দিনই মার্কেটে আগুন। এতেই বুঝা যায় আল মদিনা শপিংমলে আসলে আগুন টা লাগিয়েছে কে!
আল মদিনা শপিংমলে অবস্থিত ক্যাপিটাল স্কুল এন্ড কলেজের একজন অভিভাবক শাহাবুদ্দিন বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় এই বিল্ডিংয়ের ৫ম তলায় আমার সন্তাহসহ ২ শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ছিল। অল্পের জন্য বেঁচে ফিরেছেন তারা। তাদের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাঁপ ছিল।
তিনি আরো বলেন, এটা যেন সঠিক তদন্ত হয়ে আমরা সুবিচার পাই। সম্পূর্ণ একটা আল মদিনা শপিংমলের কর্তৃপক্ষের নাটক। আমরা চাই সঠিক তদন্ত করলে সব বেড়িয়ে আসবে।
এদিকে আল মদিনা শপিংমলের মালিক মাজহারুল ইসলাম নবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি একটি দূর্ঘটনা। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
