সোনারগাঁও পৌরসভা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার - News Of Sonargaon

শিরোনাম

Monday, May 18, 2026

সোনারগাঁও পৌরসভা এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার



নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ফয়সাল (৩৫) নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। 


সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার পৌরসভার জয়রামপুর এলাকায় তার নিজ বাড়ির দোতলার নিজ কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ফয়সাল একই এলাকার ইয়াসিন খলিলের বড় ছেলে। ব্যক্তি জীবনে ফয়সাল বিদ্যুৎ মিস্ত্রি হলেও এলাকায় মাদক সেবী এবং ব্যবসায়ী হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিল।


ফয়সালের ছোট ভাই ফাহিম জানান, ফয়সাল মাদক ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত থাকায় তার পরিবার তার (ফয়সাল) সাথে রাগ করে সাভার ভাড়ায় থেকে বসবাস করেন। তার বাবা প্যারালাইসিস রোগী। ফাহিম ভেটেরিনারি কলেজে হিসাবরক্ষণ বিভাগে অনার্স অধ্যয়নরত।


ফাহিম আরও জানান, ব্যক্তি জীবনে তার বড় ভাই ফয়সাল পারিবারিকভাবে প্রথম বিয়ে করেন কুমিল্লার মনা নামে এক নারীকে। বিয়ের পর ফয়সাল প্রথমে মাদক গ্রহণ এবং পরবর্তীতে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম স্ত্রী অনেক কষ্ট করে মাদক থেকে সুস্থ জীবনে আনার পর কাউকে না জানিয়ে স্থানীয় এলাকায় ভাড়া থাকা রংপুরের এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করে। মূলত দ্বিতীয় বিয়ের পর সে এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি পায়। তার পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয়।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাশের বাড়ির এক গৃহিণী জানান, সপ্তাহ দুয়েক আগেও ফয়সালের দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে ফয়সালের ঝগড়া হয়। সে সময় তার স্ত্রী ফয়সালকে শারীরিক নির্যাতনও করেন। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে ওই মহিলা ফয়সালকে শারীরিক নির্যাতন করতো।


ফয়সালের বিদেশ ফেরত এক চাচাতো ভাই জানান, গত শুক্রবার ফয়সাল স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর গাছের বিভিন্ন ফল পেরে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে বিলি করেন। তারমধ্যে কোন চিন্তা বা দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা যায়নি।


ফয়সালের দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে ফয়সালের ঝগড়া হয়। সে সময় তার স্ত্রী ফয়সালকে শারীরিক নির্যাতনও করেন। প্রায়ই তাদের মধ্যে ঝগড়া হলে ওই মহিলা ফয়সালকে শারীরিক নির্যাতন করতো।


ফয়সালের বিদেশ ফেরত এক চাচাতো ভাই জানান, গত শুক্রবার ফয়সাল স্থানীয় মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এরপর গাছের বিভিন্ন ফল পেরে আশেপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে বিলি করেন। তারমধ্যে কোন চিন্তা বা দুশ্চিন্তার ছাপ দেখা যায়নি। তবে, তার অর্ধগলিত মরদেহ দেখে ধারণা করা হয় কমপক্ষে দুদিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে।


ঘটনাস্থলে ফয়সালের মরদেহ যে কক্ষে ছিল সে কক্ষের বাইরে একটি বিড়ালকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশের ধারণা, মৃতের শরীর থেকে যে সকল ময়লা বা পঁচা রক্ত বের হয়েছে, সে রক্ত খেয়ে বিড়ালটির মৃত্যু হতে পারে।


এ ব্যাপারে সোনারগাঁ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেই ধারণা করছি। তবে, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না দেখে নিশ্চিত কিছুই বলা যাচ্ছে না।