সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুসময়ের কোকিলের মতোই একসময় জাতীয় পার্টি পরবর্তীতে বেশ পাল্টে আওয়ামী লীগের নেতা বনে যাওয়া সোনারগাঁও উপজেলার নোয়াগাঁও ইউপি সদস্য মো: রিয়াদ হাসান ফকির একই ইউনিয়নের যুবদল আহবায়ক ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমানের শেল্টারে বেপরোয়া হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইউনিয়নের তৃণমুল বিএনপি ক্ষোভে অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মুখ খুলতে চাইছেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদল নেতা বলেন, ৫ ই আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টি নেতাদের রক্ষা করা তাদের শেল্টার দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব নিজের কাধে নিয়েছেন নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান। নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার রিয়াদ ফকির একাধিক হত্যা মামলার আসামী হলেও সে গ্রেফতার হওয়া তো দূরের কথা প্রকাশে চেয়ারম্যানের শেল্টারে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। নিরীহ মানুষের জমি দখল ও মিথ্যা মামলার ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, শুধু তাই নয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জন্মনিবন্ধন, ওয়ারিস সারটিফিকেট প্রদানে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো: রিয়াদ হাসান ফকির ভূমি দখলসহ সহ নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত৷ ধন্দিরবাজার এলাকার বাসিন্দা মাসুম জানান, আমার ১০ শতাংশ জমি দখল করে নিতে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে ইউনিয়ন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও রিয়াদ মেম্বার। চেয়ারম্যান জন্ম নিবন্ধনের জন্য ২৫০০ টাকা নিয়ে তালবাহানা করতেছে জন্ম নিবন্ধন দিচ্ছে না।
শেখকান্দী গ্রামের বাসিন্দা গোলাম রাব্বি বলেন, "চেয়ারম্যান আমার জন্মনিবন্ধনের জন্য আমার কাছ থেকে ১৫০০ টাকা নিয়েছে। এটা নাকি কোন সরকার নাই বলে বেশি খরচ দেয়া লাগবে"।
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া বলেন, "নোয়াগাঁও ইউনিয়ন আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আওয়ামী লীগের দোসররা বিএনপির কয়েকজনকে হাত করে যা ইচ্ছা করে বেড়াচ্ছে। এই জন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদেই যাওয়া বন্ধ করে দিছি। আতাউর আওয়ামী লীগের মেম্বার রিয়াদকে শেল্টার দিয়ে নোয়াগাঁও বিএনপির ইমেজ সংকটে ফেলছে। খুব শীঘ্রই সাংগঠনিক ভাবে আমরা ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধতন নেতাদের কাছে জানাবো"৷
নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রিয়াদ ফকিরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে। আমরা ১৭ বছর যাদের জন্য বাড়িতে থাকতে পারি নাই তাদের শেল্টার দেয়ার বিষয় টা আমাদের জন্য লজ্জার।
অভিযুক্ত নোয়াগাঁও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শেল্টার দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২০২২ সাল থেকে আমি যুবদলের ইউনিয়ন আহবায়ক। আর রিয়াদ ফকির আওয়ামী লীগের নেতা তার বিরুদ্ধে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র হত্যা মামলা আছে জানি৷ চেয়ারম্যান হিসেবে আমি তার কাজে সহযোগিতা করি।
