সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে সৌদি প্রবাসীর ধর্ষণে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে গত সোমবার সন্ধ্যায় সালিশি বৈঠক হয়েছে। এতে স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার মধ্যস্থতায় ১৩ লাখ টাকায় রফাদফা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত আব্দুর রব উপজেলা বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক গ্রামের বাসিন্দা। উপজেলার নদীবেষ্টিত দুর্গম চরাঞ্চল বারদী ইউনিয়নের নুনেরটেক মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বারদী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দুই বিএনপি নেতা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ উঠেছে, ওই টাকা থেকে তারা ৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবাসী আব্দুর রব একা বাসায় সুযোগ পেয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত সোমবার স্থানীয়দের সহায়তায় সালিশ হয়। এতে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ও স্বপনসহ তাদের লোকজন ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তকে ১৩ লাখ টাকা জরিমানা করার মাধ্যমে রফাদফা করেন। বৈঠকে আব্দুর রব নগদ ৩ লাখ টাকা বিএনপি নেতা শাহজাহানের কাছে দেয়। ওই টাকা গতকাল বুধবার পর্যন্ত ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার পায়নি বলে দাবি করেছে। তবে ওই টাকা তার কাছে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বাকি ১০ লাখ টাকা আগামী ২০ জানুয়ারি তারিখে দেওয়ার কথা রয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, ১৩ লাখ টাকা রফাদফার পরও বিএনপির দুই নেতাকে আরও ৩ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ওই সালিশ বৈঠক হয়। এই ৩ লাখ টাকা তারা নিজেরা পাবেন। সেই শর্তে সালিশে এমন সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর এক স্বজন বলেন, আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে ওই কিশোরী আব্দুর রবের মেয়ের সঙ্গে রাতে থাকত। সেই সুযোগে প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে আব্দুর রব। ভুক্তভোগীর মা নেই। বিষয়টি জানাজানি হলে তাদের পরিবারকে জানানো হয়। পরে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয় তারা। এরই মধ্যে কিশোরী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। সমাধান না করার কারণে সালিশ ডাকা হয়েছে। সেখানে ১৩ লাখ টাকায় রফাদফা হয়। ৩ লাখ টাকা নগদ দেওয়ার পরও কিশোরীর পরিবার তার এক টাকাও পায়নি।
অভিযুক্ত আব্দুর রবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তার স্ত্রীর দাবি, তার স্বামী এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। তবে কেন ৩ লাখ টাকা দিয়েছেন, এমন প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দেননি তিনি।
বিএনপি নেতা শাহজাহান মিয়া বলেন, সালিশি বৈঠক হয়েছে। আমি অন্য সবার মতো বিচারে উপস্থিত ছিলাম। অর্থ লেনদেনের সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তবে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তরা সমঝোতায় চলে গেছে। এতে আমাদের কিছু করার নেই।
আরেক নেতা আব্দুল কাদির বলেন, বিষয়টি আমাদের কাছে জানালে আমি ও শাহজাহান মিলে অভিযুক্ত আব্দুর রবকে ১৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় দিই। পরে আমাদের কাছে ৩ লাখ টাকা দেয় তারা। বাকি টাকা দুদিনের মধ্যে না দিলে আমরা সেই টাকা মেয়ের চাচা আলী হোসেনের কাছে দিয়ে দিই। পরে জানতে পারি দুপক্ষই সমঝোতায় চলে গেছে। অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সঠিক নয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল বারী বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ থানায় আসেনি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
