সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের দুপাশে রেলওেয়ের পতিত জায়গা লিজ এনে দেয়ার নাম করে সোনারগাঁ উপজেলার তালতলা বাজার এলাকা থেকে অর্ধশত দখলদারের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে মজিবুর রহমান নামে এক লোকের বিরুদ্ধে। তিনি বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন ওই এলাকার পুরো জায়গা তার নিজের নামে লিজ এনেছেন বলে দাবী করে দখলদারদেরকে জায়গা ছেড়ে দিয়ে চলে যেতে নানা ভাবে হুমকী ধমকী দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তালতলা বাজারের দুটি দোকানের দখলদার শাহাদাত হোসেন জানান, "আমার দোকান দুটো যে জায়গায় অবস্থিত সে জায়গা টুকু আমার মরহুম দাদার ছিল। রেলওয়ে লাইন নির্মাণের সময় তা আমার দাদার কাছ থেকে একোয়ার করে নেয়। কিন্তু তখন থেকেই আমি এখানে দখলে আছি। আমাদের রেলওয়ে বরাবরে জায়গাটির লিজের জন্য আবেদন ও করা আছে। জায়গাটি আমার নামে লিজ এনে দিবে বলে মজিবুর আমার কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা ও নেন। কিন্তু এখন তিনি দোকান বন্ধ করে জায়গার দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন ভাবে আমাকে চাপ প্রয়োগ ও হুমকী ধমকী প্রদর্শন করছেন। সেলিম নামে এক ফার্মেসীর দোকান্দার জানান, একই কথা বলে মজিবুর আমার কাছ থেকেও টাকা নিয়েছেন। এখন আমাকেও দোকান বন্ধ করে দিতে চাপ প্রয়োগ করছেন"।
বাবুল নামের এক চাউলের দোকানদার জানান, মজিবুর একই কথা বলে আমার কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, রেলওয়ের জায়গা লিজ এনে দেয়ার কথা বলে তিনি তালতলা বাজারের প্রায় ৪০/৫০ জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এখন তিনি সমস্ত জায়গা নিজের নামে লিজ এনেছেন বলে এলাকায় প্রচার করে আমাদেরকে জায়গার দখল ছেড়ে দেয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকী ধমকী দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি নিজের নামে লিজের কোন কাগজ আমাদেরকে দেখাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মজিবুর রহমানের সাথে আলাপ করলে তিনি টাকা নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, "এখানে আমার ও সম্পত্তি আছে। আমার কাছ থেকে একোয়ার করে নেয়া সম্পত্তি আমার নামে রেলওয়ে লিজ দিয়েছে। তবে তিনি এ ব্যাপারে কোন কাগজপত্র দেখাননি। বিষয়টি সম্পর্কে রেলওয়ের কাননগু রুহুল আমিন নামে এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদেকে জানান, উভয় পক্ষের কাগজ পত্র না দেখে বিষয়টি সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্তে যাওয়া যাচ্ছে না"।
এ ব্যাপারে তালতলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই সাইফুল ইসলাম জানান, "তালতলা বাজারে রেলওয়ের জায়গা থেকে দোকানদারদের উচ্ছেদ করার জন্য আমি কোন রকম কোর্ট অর্ডার পাইনি"।
