নিউজ অফ সোনারগাঁও ডেস্কঃ
হেফাজতের তান্ডবে সোনারগাঁওয়ের প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন, সাবেক সাংসদ: আব্দুল্লাহ আল কায়সার সহ সাধারণ জনগন হেফাজতের তান্ডব ও নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত।
তিনি বলেন, সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্টের ঘটনার পর আমরা পরের দিন (৪ এপ্রিল) উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সভা আহবান করলে ইউএনও আতিকুল ইসলাম আমাদের যথেষ্ট নিরুৎসাহিত করেছেন। পরবর্তীতে আমি প্রতিবাদ সভায় আমি বলেছি, প্রকৃত আলেমরা এ ধরণের ঘৃণিত কাজ কখনো করতে পারেন না। আমি ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখেছি তাদের কারো মাথায় টুপি ও গায়ে পাঞ্জাবী পরা ছিল না। তারা কারা? বিএনপি, জামায়ত ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা দেশে অরাজকতা তৈরিতে হেফাজতের তা-ব ও নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এসময় তাদের ইউএনও আতিকুল ইসলাম ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে সোনারগাঁও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু জানান, গত (৩ এপ্রিল) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম তাকে মোবাইলে ফোন করে মাহমুদুল হক এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে পানাম নগর ইছাপাড়া এলাকায় রয়েল রিসোর্টে অবস্থান করতেছে বলে নিশ্চিত করেন এবং নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নুকে বলেন, আপনি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কিছু নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রয়েল রিসোর্টে আসেন, আমিও রিসোর্টে আসতেছি। (এ ব্যপারে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নু ও সাংবাদিকের ফোনালাপ ভাইরাল হয়ে পরলে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠে।)
পরে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নু ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ রনিসহ ১০-১২জন নেতাকর্মী রয়েল রিসোর্টে গিয়ে নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলাম দেখতে পাননি। এ সময় সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গোলাম মোস্তফা মুন্না ও সোনারগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মো. তবিদুর রহমানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ দেখতে পান।
এ ছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠো ফোনে যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম নান্নুর অভিযোগটির প্রসঙ্গে জানতে চাইলে, ওই গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে অসৌজন্য মূলক আচরণ করেন ইউএনও এবং ওই গণমাধ্যমকর্মীকে মামলা দিয়ে জেল খাটানোরও হুমকি প্রদান করারও অভিযোগ উঠেছে ।
এ ব্যাপারে সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং তিনি আরো বলেন, যুবলীগ সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুর সঙ্গে তার কোন কথাই হয়নি, তবে (৪ এপ্রিল) সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সার যে দিন মোগরাপাড়া চৌরাস্তায় প্রতিবাদ সভার ঘোষনা দিয়ে ছিলো, সে দিন তার উর্ধ্বতন কর্মকর্তদের নির্দেশেই সভাটি না করার জন্য বলেছি। কারণ ওই দিন হেফাজতের নেতাকর্মীরা ও আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুনরায় সংঘর্ষ হওয়ার আশঙ্কা ছিল তাই আমি আইন শৃঙ্খলা অবনতি যাহাতে না হয় সেই চিন্তা করে বলেছিলাম।
উল্লেখ: গত শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর অদূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের একটি রিসোর্টে হেফাজত নেতা মামুনুল হক একজন নারীসহ অবস্থান করছেন এমন খবর পেয়ে স্থানীয় কিছু লোকজন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা তার কক্ষটি ঘেরাও করেন। যদিও মামুনুল হক সঙ্গে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। পরে সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে বিএনপি, জামায়ত শিবির, জাতীয় পার্টির ও হেফাজতের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মাদরাসার ছাত্ররা মিছিল নিয়ে এসে রয়েল রিসোর্ট নামের ওই অবকাশযাপন কেন্দ্রটিতে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেয়।
পরে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত আওয়ামীলীগের প্রধান কার্যালয় ও যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘরে, পুলিশের উপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করে।
এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় হেফাজত নেতা মামুনুল হককে প্রধান আসামী করে পৃথকভাবে মোট ৬টি মামলা হয়। এতে প্রায় দেড় হাজারের জনকে আসামী করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫০জন আসামীকে গ্রেফতার করেছেন সোনারগাঁও থানা পুলিশ।
